যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখলেও কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইরাকি গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক আল-আখবারিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন আরাগচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মার্কিন প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা। পরমাণু কর্মসূচিকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র মূল বিরোধের বিষয়টি আড়াল করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাগচির অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার আলোচনায় বসেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি ইরান। বরং আলোচনার ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেশটির ওপর সামরিক হামলা হয়েছে। গত বছরের জুনে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই ক্ষেত্রেই কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান ছিল।
এ ছাড়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সময়ে লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেন আরাগচি। তাঁর মতে, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হলে নতুন কোনো সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
এমন পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিক উদ্যোগ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, সাত দিনের এই পরিকল্পনায় কয়েকটি ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমে ইসলামাবাদ সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হলে পরবর্তী ধাপে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এবং সমঝোতার শর্ত মেনে চলার ওপর।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান যোগাযোগ শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান এনে দিতে পারে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।
আরাগচির বক্তব্যে স্পষ্ট, ইরান আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করছে না। তবে দেশটির শর্ত হলো আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া। এখন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে কী সাড়া দেয়, তার ওপরই পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সদ্য সংবাদ/এসএস