বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সালমান এফ রহমানকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে মামলাটির শুনানি হয়। পরে ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
সালমান এফ রহমানের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম জানান, মামলায় তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, মামলার বেশ কয়েকটি ধারা জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত জামিন দিয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বিআইএফএফএলের তৎকালীন সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি করায় চাপের মুখে পড়েন। তার অভিযোগ, তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে ঋণ অনুমোদন না হওয়ায় এসব প্রস্তাবে সম্মতি দেননি ফরমানুল ইসলাম। এর জেরে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের এক বোর্ড সভার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ভয় দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে সই করানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মোবাইল সংযোগ বন্ধ, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।
ঘটনার কয়েক বছর পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফরমানুল ইসলাম ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সংস্থাটি। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কয়েকজন ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছেন। আর সাজ্জাদ হোসেন নামে এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সালমান এফ রহমানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আজ শুনানি শেষে তিনি জামিন পেলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস