বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত করা যাবে না: হাইকোর্ট

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৪:১৮
সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুতর শাস্তি দেওয়ার আগে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শিক্ষা বোর্ডের ‘আপিল ও সালিশ কমিটি’ বিষয়টি পরীক্ষা করে অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গভর্নিং বডি শিক্ষকের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে না।

এক কলেজশিক্ষককে অসদাচরণের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন আদালত।

গত ৭ জুলাই বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবির।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণের পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও অপরিহার্য। যথাযথভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে কিংবা মৌখিক বা মোবাইল ফোনের নির্দেশের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তড়িঘড়ি করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আইনসম্মত নয়।

যে ঘটনায় মামলা

মামলাটি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মনসুরকে ঘিরে।

২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর গচিহাটা পল্লী একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া বেগম ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথম নোটিশের জবাবে আবুল মনসুর ওই বাড়িতে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে তাকে আরও একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় নোটিশের জবাবেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এরপর গভর্নিং বডির সভাপতি ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহা. আখতারুজ্জামানের মৌখিক বা মোবাইল ফোনের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভর্নিং বডির সভায় আবুল মনসুরকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন থেকে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর দেখানো হয়।

বোর্ডের সিদ্ধান্তে বরখাস্ত বাতিল

বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। একই বছরের ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায় কমিটি গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুমোদন না করে তা নামঞ্জুর করে।

একই সঙ্গে শিক্ষককে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৮ মে স্মারকের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, আপিল ও সালিশ কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।

এরপর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি মোহা. আখতারুজ্জামান। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

চূড়ান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ বাতিল

দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ৭ জুলাই হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।

তবে বিচারাধীন সময়ে শিক্ষক আবুল মনসুর অবসরের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছে যাওয়ায় তাকে পুনরায় চাকরিতে ফেরানোর সুযোগ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

এ অবস্থায় বরখাস্তের তারিখ থেকে অবসরের তারিখ পর্যন্ত তার প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা, চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা এবং পেনশনসহ অবসরকালীন পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শাস্তি কার্যকর নয়

রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি কলেজের শিক্ষককে বরখাস্ত বা চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না।

আদালতের মতে, গচিহাটা কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ডের অনুমোদনের আগেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে আইনগত এখতিয়ার অতিক্রম করেছে।

রায়ে শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চাকরিজনিত সুবিধা এবং অবসরকালীন প্রাপ্য দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মোহা. আখতারুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য মামলায় দেওয়া এ রায়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বরখাস্তের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সদ্য সংবাদ/এসকে

আইন-আদালত ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. মাসে ২০-২২টি বুকিং থাকত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের সেই ফ্ল্যাটে সদ্য. কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ সদ্য. সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় প্রথম স্থানে বিএনপির এমপি চাঁদের নাম সদ্য. ভুল রাজনীতি করে আ.লীগকে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার সদ্য. আফগানদের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায় সদ্য. ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার সদ্য. সরবরাহ সংকটে বাড়ছে চাল-চিনির দাম, কমছে গম-ভুট্টার সদ্য. নরসিংদীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ সদ্য. মাসে ২০-২২টি বুকিং থাকত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের সেই ফ্ল্যাটে সদ্য. কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ সদ্য. সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় প্রথম স্থানে বিএনপির এমপি চাঁদের নাম সদ্য. ভুল রাজনীতি করে আ.লীগকে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার সদ্য. আফগানদের কাছে হেরে বাংলাদেশের বিদায় সদ্য. ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার সদ্য. সরবরাহ সংকটে বাড়ছে চাল-চিনির দাম, কমছে গম-ভুট্টার সদ্য. নরসিংদীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫