একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে সার ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে হাইকোর্ট যে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামে সার ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ আপাতত থাকছে না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা জুঁই এবং রিটকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইকরামুল হক টুটুল উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সার ডিলার ও বিতরণসংক্রান্ত ২০০৯ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এর ফলে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান কিংবা অন্যান্য সদস্যের নামে পৃথকভাবে ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
সরকারি পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু পরিবারের হাতে সার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরে চলতি বছরের আগস্টে সেটিতে সংশোধন এনে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়।
এই সংশোধিত নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান চ্যালেঞ্জ করে পাঁচ ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের দাবি ছিল, নতুন নিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা তাদের ডিলারশিপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নীতিমালার ওই অংশের কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
এরপর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, নতুন নীতিমালা নিয়ে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ফলে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল থাকলে সরকারের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পাশাপাশি রিটকারীদের আইনজীবীর বক্তব্যও শোনেন চেম্বার বিচারপতি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করে দেন আদালত।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই আদেশের ফলে সরকারের সংশোধিত নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর থাকছে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির হাতে ডিলারশিপ কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠেকানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সার বিতরণ ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠাই নতুন বিধানের মূল উদ্দেশ্য।
তার ভাষ্য, সার বিতরণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের কাছে যথাসময়ে ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়াও নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস