ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নদীর মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলে পানি শোধনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাঁদপুর ও মোংলায় ফিজিবিলিটি স্টাডি করার কথাও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, রাজধানীতে পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রায় ৭৪ শতাংশ পানি মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পানির স্তর নেমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী ও অন্যান্য উৎসের পানি পরিশোধনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পরিশোধিত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহের মতো একটি সমন্বিত পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজধানীর পানির চাহিদা পূরণে মেঘনা নদীর পানি ব্যবহারের জন্য সায়েদাবাদ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৯৫ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরে পানি পরিশোধন ও নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগেও ডেনমার্ক সহযোগিতা করছে। এ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।
সদ্য সংবাদ/এসএস