জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচলেও। ঢাকা থেকে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী বাসে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংশ্লিষ্ট রুটের বাস মালিকদের এক বৈঠকে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের দাবি, জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতেই ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী একটি বাস কোম্পানির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সংশ্লিষ্ট রুটের মালিকরা আলোচনা করে আপাতত ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাত্রীরা পথে যে স্থানেই নামুন, বিদ্যমান ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত এই অর্থ যোগ হবে বলে জানান তিনি।
বাস মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া থেকে খুলনা যাতায়াত করে ঢাকায় ফিরতে একটি বাসে প্রায় ১৪০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, একটি ট্রিপে গড়ে ২৮ জন যাত্রী ধরা হয়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত খরচের একটি অংশ যাত্রীভাড়ার মাধ্যমে সমন্বয়ের জন্যই ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হতে পারে নতুন জটিলতা। কারণ, এখনো নতুন করে বাসভাড়া নির্ধারণ করেনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পরিবহন মালিকদের ধারণা, জ্বালানির দাম বাড়ার পর নতুন ভাড়া নির্ধারণে সংস্থাটির এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে।
এরই মধ্যে বাস পরিচালনায় বাড়তি ব্যয় শুরু হওয়ায় সরকারি ভাড়া নির্ধারণের আগেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন মালিকরা। তাদের বক্তব্য, বিআরটিএ নতুন ভাড়া ঘোষণা করলে সরকারি নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ভাড়ার হার অনুসারে আবারও ভাড়া সমন্বয় করা হবে।
পরিবহন মালিকরা বলছেন, দ্রুত নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হলে এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমবে। সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাড়তি ভাড়া দিতে অনেক যাত্রী আপত্তি করতে পারেন। এতে বিভিন্ন রুটে বাসের চালক, সহকারী বা কন্ডাক্টরের সঙ্গে যাত্রীদের বিরোধে জড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
তাই জ্বালানি তেলের নতুন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিআরটিএ দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পরিবহন মালিকরা।
সদ্য সংবাদ/এসএস