শিশুদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে সমাজে নানা ধরনের অধঃপতন ও অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তাঁর মতে, নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি তৈরি হলে একজন মানুষের পক্ষে ভালো-মন্দের মৌলিক পার্থক্য বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো) ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জ মেকার, ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিশুদের মধ্যে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য উপলব্ধির সক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনেও পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর শিক্ষা এবং মৌলিক বিকাশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তবে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও উদাসীনতার কারণে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ছে।
শিশুদের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসকে