ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রাকিবুলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। ওই মামলার ভিত্তিতেই রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে রাকিবুলকে ডিবি গ্রেপ্তার করেনি বলে স্পষ্ট করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, সেন্ট্রাল রিজার্ভ অফিস (সিআরও) তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এ মামলার তদন্তও ডিবি করছে না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ডিবির কাছে কোনো চিঠি আসেনি বলেও জানান তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। অডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদর দপ্তরের দুজন কর্মকর্তা ছিলেন।
ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে পুলিশ, সরকার ও বিভিন্ন বাহিনী সম্পর্কে নানা বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সেখানে রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে পুলিশ কিছু করতে পারবে না এমন বক্তব্যও শোনা যায়।
এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ার দাবি, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান এবং পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও অডিওতে বক্তব্য রয়েছে বলে জানা যায়।
অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। ওই কমিটি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি নিজের নয় বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন রাকিবুল হাসান। তাঁর বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর