ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জাতিসংঘে দেশটির পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক জোট’- এর উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।
তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণ ও মালিকানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
গাজায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর আইনি সুরক্ষা ও নিয়মিত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি অবস্থানের সুযোগ তৈরিই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের লক্ষ্য।
ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও নতুন নয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বিভিন্ন বক্তব্যে এর আগে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে