জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচ দিনের ব্যস্ত কর্মসূচি শেষ করে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।
সফরজুড়ে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু ইস্যু এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব পায়।
সফরের শেষ দিনও কর্মব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগানের আয়োজনে একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
সবশেষে শুক্রবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে