নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) ও কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডের (সিপিএফ) সঞ্চয়ের বিপরীতে মুনাফার হার নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তহবিলে থাকা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন সরকারি কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম দিনে কোনো সরকারি কর্মচারীর জিপিএফে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সেই স্থিতির বিপরীতে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে।
তবে তহবিলের স্থিতি ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার কমে দাঁড়াবে ১২ শতাংশে। আর জিপিএফে ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী পাবেন ১১ শতাংশ হারে মুনাফা।
শুধু আগের স্থিতির অর্থ নয়, চলতি অর্থবছরে জিপিএফে জমা দেওয়া চাঁদার ক্ষেত্রেও একই নির্ধারিত হারে মুনাফা দেওয়া হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কনট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সিপিএফের আওতাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলো নিজস্ব আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে কর্মীদের মুনাফা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যে হারেই মুনাফা দিক না কেন, সরকারের নির্ধারণ করা হারকে সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে মানতে হবে।
এর আগে গত ১ জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকরের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
পরবর্তী ছয় মাসে অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামোর পাশাপাশি জিপিএফ ও সিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের সঞ্চয় ও অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার হিসাবেও এর প্রভাব পড়বে।
সদ্য সংবাদ/এসএস