বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি পর্যটন খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বর্তমানে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে চলমান বিমান চলাচল বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স এ রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর সঙ্গে আরও তিনটি ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানান মন্ত্রী।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তখন বাংলাদেশ-তুরস্ক রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে এই দুই অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির আন্তর্জাতিক যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
তার মতে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা গেলে দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়বে।
বৈঠকে পর্যটন খাতেও সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মান বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হসপিটালিটি ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের এই খাতের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।
এ সময় দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা সুবিধা সহজ হলে পর্যটন, ব্যবসা ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে তুরস্কের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলিউর্ট এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস