ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন, একনেকে অনুমোদন

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৫:৫০
সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আসছে বড় পরিবর্তন। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চলাচলের অবকাঠামো তৈরিতে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৮ সাল।

প্রকল্পের আওতায় রেললাইনের ওপর স্থাপন করা হবে ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে প্রয়োজনীয় পাওয়ার সাব-স্টেশন। এর ফলে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হবে।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর অংশে ইলেকট্রিক ট্রাকশন চালুর উদ্যোগকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোর বিদ্যুতায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেলপথেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে টঙ্গী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ৯৭ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য একটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০৩২ সাল পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে, লাকসাম-চট্টগ্রাম রুটের প্রায় ১৩১ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাব। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন লাইন নির্মাণের সময়ই সেখানে ইলেকট্রিক ট্রাকশনের জন্য ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ধাপে ধাপে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে করিডোরের ডুয়েলগেজ রূপান্তরের কাজ শেষ করার পাশাপাশি ইলেকট্রিক ট্রাকশনের অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। লক্ষ্য রয়েছে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা।

ইতোমধ্যে আখাউড়া-লাকসাম রুটে নতুন ডাবল লাইন চালু হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী রেলপথেও অতিরিক্ত লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে বিদ্যুৎচালিত ও দ্রুতগতির ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ওভারহেড ক্যাটেনারি, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং এবং লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর আগে রোলিং স্টকের ধরন ও সক্ষমতা নির্ধারণেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন ধরনের ট্রেন ব্যবহার করা হবে এবং তা দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনের উপযোগী কি না- এসব বিষয় শুরুতেই নির্ধারণ করা জরুরি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎচালিত ট্রেনের নেটওয়ার্ক কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে বাস্তবায়ন হলে ধাপে ধাপে দেশের প্রধান রেল করিডোরগুলোতে ডিজেলনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎচালিত রেল যোগাযোগের দিকে যাওয়ার পথ তৈরি হবে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে পদত্যাগ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম সদ্য. কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি সদ্য. ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সদ্য. মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, সমর্থন নেমে ৩১ শতাংশে সদ্য. জুলাই আন্দোলনের প্রথম কোনো আসামি মুক্তি পেলেন কারাগার থেকে সদ্য. আট মাসে পদত্যাগ করলেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সদ্য. রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে জ্বালানি খাত: অর্থমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রী ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে পদত্যাগ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: নাহিদ ইসলাম সদ্য. কক্সবাজারে অস্ত্রের মুখে ৫০-৬০ যানবাহনে ডাকাতি সদ্য. ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সদ্য. মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, সমর্থন নেমে ৩১ শতাংশে সদ্য. জুলাই আন্দোলনের প্রথম কোনো আসামি মুক্তি পেলেন কারাগার থেকে সদ্য. আট মাসে পদত্যাগ করলেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সদ্য. রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে জ্বালানি খাত: অর্থমন্ত্রী সদ্য. প্রধানমন্ত্রী ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন: আইনমন্ত্রী