ঢাকা মহানগরের সাবরেজিস্ট্রারদের কর্মস্থল নির্ধারণে লটারির মাধ্যমে পোস্টিং দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা এবং বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তদবিরের পরিস্থিতি এড়াতে এ পদ্ধতি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন এমন সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি করতে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসে। এ ধরনের পরিস্থিতি কমাতে ঢাকার মধ্যে সাবরেজিস্ট্রারদের পোস্টিং লটারির মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের পরিকল্পনার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, ধাপে ধাপে অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তার মতে, বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের মধ্যে সংযোগ তৈরি হলে একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা সহজ হবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য যেভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, ভবিষ্যতে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও সেই ব্যবস্থার অংশ হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়ের তথ্য অনলাইনে থাকলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন করে বিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে অনলাইন ব্যবস্থায় আগের তথ্য যাচাই করার সুযোগ থাকবে।
একই সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় তথ্য ভবিষ্যতে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধ কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সম্পর্ক নির্ধারণ করা সহজ হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ নিয়ে মামলা কমতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশগামী নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের ব্যবহার থাকবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নেওয়ার আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে আইনমন্ত্রী পুলিশ ভেরিফিকেশনের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও তথ্যব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলে নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ কমবে। জন্মনিবন্ধন থেকে এনআইডি এবং পরে পাসপোর্ট একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধাপে ধাপে একই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিশু জন্মের পর জন্মনিবন্ধন এবং ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে ওই তথ্য ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্ট তৈরিতেও জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্য প্রয়োজন হয়। ফলে নাগরিকের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আসছে।
বিভিন্ন দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত থাকার উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সরকারি তথ্য সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইয়ের সুযোগ আরও বাড়বে।
সদ্য সংবাদ/এসএস