বিমানবন্দরে ঘটনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিকে ঘিরে আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আদালতের নির্দেশে সাংবাদিকদের আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির আগে আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।
শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য
আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানির একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান নিজেও আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি
সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আপত্তি জানান। তাদের বক্তব্য, শুনানির সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হতো।
একজন সাংবাদিক জানান, তিনি শুনানির আগে আদালতকক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরে আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার পর তাকে বাইরে যেতে বলা হয়। এর কারণ হিসেবে আদালতের নির্দেশের কথা জানানো হয়েছিল বলে তার দাবি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকীর বক্তব্য, সাংবাদিকদের আদালতকক্ষে না রাখার সিদ্ধান্ত প্রসিকিউশন বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। তার দাবি, শুনানির সময় আখতারুজ্জামান বিচারক, পুলিশ ও প্রসিকিউশনের প্রতি উত্তেজিত আচরণ করছিলেন এবং আইনজীবী ছাড়া অন্যদের আদালতকক্ষে না রাখার বিষয়ে তার বক্তব্যের পর বিচারক এ নির্দেশ দেন।
কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে?
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেরি হয়। এ সময় ট্রলির সংকট ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পর তার মাথায় থাকা হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন এক দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত ১০ নভেম্বর সময় নির্ধারণ করেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে