বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে একই সময়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিটে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। দুই ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াটে।
কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকা অবস্থায় এটিই এখন পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড।
রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু সময় উৎপাদন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই নিয়মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী এর সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দ্রসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই ইউনিট থেকে একসঙ্গে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাহিদার সময়ে কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। ২০১০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এ বিষয়ে চুক্তি করে।
চুক্তির ভিত্তিতে গঠন করা হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। এই কোম্পানির অধীনেই বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে।
দুটি ইউনিট থেকে একসঙ্গে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ডকে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে