দেশে নিয়ম মেনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেন মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ। বাকি ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে নিবন্ধন করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।
মাঠপর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর সময় পাঁচ-ছয় বছর বয়সে অনেকে প্রথমবার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন অনুভব করেন। আবার ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির সময়ও নিবন্ধনের জন্য ছুটতে হয়। অন্যদিকে জমিজমাসংক্রান্ত আইনি প্রয়োজন না হলে মৃত্যু নিবন্ধন করতে মানুষ প্রায় আগ্রহী হন না।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যের এই বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দূর করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মীর শাহে আলম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সঠিক জনসংখ্যার হিসাব জানা না থাকলে চালের চাহিদা, শিশুপুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি কীভাবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব?
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হলেও জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি। তাঁর দাবি, ২০১০ সালে ম্যানুয়াল তথ্য ডিজিটাল করার সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ কোটি ভুয়া এন্ট্রি যুক্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়ন করতে হলে জন্ম নিবন্ধনের এই অসঙ্গতি আগে দূর করতে হবে।
মাঠপর্যায়ের অনিয়ম বন্ধ করা এবং নিবন্ধকদের সমস্যাগুলো সরাসরি শোনার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ঢাকায় এনে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের আইন সমন্বয় করে পুনরায় ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।
অনুষ্ঠানে শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করা এবং সনদ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি নিবন্ধন কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে নির্ভুল নিবন্ধনের গুরুত্ব এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর