নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইল সিমের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), এসএমএস ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।
বুধবার চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির অভিযোগে কয়েক দিন আগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ডেমরা থানার কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।
ডিবির একটি সূত্র জানায়, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের সিডিআর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া জিডি ও মামলার তথ্য উপস্থাপন করে সিডিআর, এনআইডি তথ্য, সর্বশেষ কলের অবস্থানসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। পরে এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবিদুর রহমান চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়। বর্তমানে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ মামলাটির তদন্ত করছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর বেআইনিভাবে সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। পরে এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়া হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর এবং নাগরিকদের সিম বা মোবাইল নম্বরের কললিস্ট, সর্বশেষ কলের অবস্থান ও এনআইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমে ফেসবুকের একটি অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপের একটি অ্যাকাউন্ট এবং টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সিডিআর বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী অনুসন্ধানে সিডিআর বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরের তথ্যও শনাক্ত করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তুরাগ থানার সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল ফোন নম্বরের তিন মাসের সিডিআর ও এনআইডি তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে তুরাগ থানার একটি জিডি নম্বর এবং একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নাম ব্যবহার করা হয়।
তবে তদন্তে দেখা যায়, ব্যবহৃত জিডি নম্বরের কোনো জিডি তুরাগ থানায় নথিভুক্ত হয়নি। একইভাবে যে এএসআইয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তিনিও ওই মোবাইল নম্বরগুলোর সিডিআর চাননি বলে তদন্তে জানা গেছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা
সদ্য সংবাদ/ এআর