খেলাপি ঋণের অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাসা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জমি জব্দ করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত ওই সম্পত্তির ওপর বর্তমানে সিটি ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয় রয়েছে। অর্থঋণ আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সম্পত্তিটি জব্দ করে সেখানে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে ইউসিবি।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশান মডেল টাউনের এসই (ডি) ব্লক-৩ এলাকায় এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ পুরো সম্পত্তিই আদালতের আদেশের আওতায় এসেছে। বর্তমানে এই সম্পত্তিতে সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সম্পত্তিটির প্রবেশপথে ইউসিবির পক্ষ থেকে একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশের ভিত্তিতে সম্পত্তিটি ইউসিবির অনুকূলে জব্দ করা হয়েছে। সাধারণের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে নোটিশটি প্রদর্শন করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান নাসা তাইপেই টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ইউসিবি থেকে ঋণ নিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় সেটি খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইউসিবির পাওনা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য পরে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ইউসিবি। মামলার শুনানি ও ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। একই আদেশে সম্পত্তির নির্দিষ্ট স্থানে আদালতের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী টাঙানো নোটিশে বলা হয়েছে, সম্পত্তিটির ওপর ইউসিবির আইনগত স্বার্থ ও দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে সম্পত্তিটি বিক্রি, কেনাবেচা, হস্তান্তর, নিবন্ধন কিংবা অন্য কোনো ধরনের লেনদেন করা আইনবিরোধী হবে এবং তা আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে কোনো ধরনের লেনদেন বা হস্তান্তর করতে হলে ইউসিবির কাছ থেকে আগে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেউ কোনো কার্যক্রম চালালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নাসা গ্রুপের ঋণখেলাপির দায়ে সম্পত্তিটি জব্দ হওয়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা আদালতের আদেশের আওতায় এসেছে। বিশেষ করে ওই সম্পত্তিতেই বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: কালবেলা
সদ্য সংবাদ/ এআর