বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়। তাই এই সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরের চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলে পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ১৫১টি জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। কোনোভাবেই এই সম্পদ ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ছোট আকারের মা ইলিশ প্রায় দেড় লাখ ডিম ছাড়তে পারে। আর বড় আকারের প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশের ডিম ছাড়ার সক্ষমতা ২০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও সক্রিয় থাকার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দীন আহম্মেদ হানজালা, মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান, বিএনপি নেত্রী নাদিরা আক্তার, শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্যসচিব সোহেল রানাসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।
সদ্য সংবাদ/এসকে