দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এ লক্ষ্যে বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দেশের ১৬তম জয়েন্ট ওয়ার্কিং সংলাপে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার সাইদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বন্দর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পণ্যের মানের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজ করা এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়ম বা ‘রুলস অব অরিজিন’ সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি আরও সহজ করার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে ভারতও নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করে। এর মধ্যে সুতা ও অন্যান্য পণ্যের ওপর বিদ্যমান বন্দর নিষেধাজ্ঞা, পণ্যের নির্ধারিত মানসংক্রান্ত জটিলতা এবং রেলপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রটোকল-সংক্রান্ত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
দুই দেশের প্রতিনিধিদল বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে বিদ্যমান এসব বাধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো ঝুলিয়ে না রেখে নিয়মিত ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বন্দর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে