মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা নয়। শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত অবস্থাই প্রকৃত স্বাস্থ্য। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই অবহেলা করার সুযোগ নেই।
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। এ প্রতিপাদ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ ও সামগ্রিক কল্যাণ জড়িত। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানসিক সমস্যায় থাকা কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দেশের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার ঘাটতি, সীমিত চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাবে যথাযথ সহায়তা পান না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা ও মান বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাদানকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গর্ভবতী মা, শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত সহায়তা পেতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের সর্বস্তরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ দ্বিধা করবেন না কিংবা সহায়তা চাইতে লজ্জা পাবেন না। মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং দিবসটির সাফল্য প্রত্যাশা করেন।
সদ্য সংবাদ/এসকে