সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ সরকার। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি কনস্যুলেটের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ এলাকায় অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনের আওতায় বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘তাআজির’ নামের বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির বিধান অনুসারে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি প্রতিনিধিত্ব ও আপিলের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। পবিত্র স্থানগুলোতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার একটি আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ দিতে হয়। তবে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আটক থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং তাঁদের পক্ষে বাংলাদেশের মিশনের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে