দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সুন্দরবনসংলগ্ন আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো খুলনা সফরে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁর সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই হবে এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। পরে সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে মোংলার আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নলিয়ান হয়ে আকরাম পয়েন্টে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে দাকোপ উপজেলায় তাঁর কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রথমবার খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। ২২ অক্টোবর নলিয়ান স্কুল মাঠে তাঁর অবতরণ এবং সেখান থেকে আকরাম পয়েন্ট পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে মাঠ পরিদর্শনের পর হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সরকারি। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তাঁর আগমন ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার মানুষও প্রধানমন্ত্রীকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা জানান, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে খুলনায় আসবেন। ২২ অক্টোবর দাকোপে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামেও তাঁর যাওয়ার কথা রয়েছে। এসব সফর ঘিরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা
আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমদানি করা গ্যাস গ্রহণ ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালকে বলা হয় এফএসআরইউ। এ ধরনের স্থাপনায় জাহাজে করে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেটিকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
তবে আকরাম পয়েন্টের প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এবং গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্য সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত স্থানের উপযোগিতা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসকে