প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকেন বলেন জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। কাজের ফাঁকে তিনি মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছে।
এদিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (পিটিআই) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় আরও ভালো নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি। একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।
মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাহলে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও আইনের ব্যতিক্রম হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়মের খবর তাঁর জানা নেই। সার ডিলার নিয়োগ এবং সার বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আইনমন্ত্রী। সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো, প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি পূরণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা ও করণীয় নিয়েও সভায় মতবিনিময় করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সদ্য সংবাদ/এআর