রাজধানীতে সাম্প্রতিক বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্য বাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি হাইকোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার কয়েকজনকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এমন দাবি তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন রিজভী। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাতেও প্রতিবাদ জানাতে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিএনপির এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তার ভাষায়, বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছে এবং দলটির রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি জনগণ।
তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন চালিয়েছে। তার মতে, জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, দলের ভিত্তি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কাঠামো নয়, বরং জনগণ। এ সময় তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে জনগণের সমর্থনের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও কামরুজ্জামান রতনসহ অন্যরা।
পরে নয়াপল্টন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস