বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় ব্যবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি আলোচনায় আনেন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও চলমান সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য, সংসদীয় কার্যক্রম এবং মানবিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার আশাবাদ জানায়।
বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং চিকিৎসক এসএম খালিদুজ্জামান।
সদ্য সংবাদ/এসএস