সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৯:১৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে থাকা একটি পক্ষ সেই অর্থের সহায়তায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি অর্থের জোগান দিচ্ছে। দেশের ভেতরে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং নির্বাচনের আগে নানা ধরনের টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, আর অন্য পক্ষ দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রচারণা মানুষ গ্রহণ করেনি। তখন ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ হয়ে গেলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো উদ্বেগ নেই বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ফ্যামিলি কার্ড চালু রাখা হবে কি না, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে কি না এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে কি না। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে জনগণের অবস্থান ইতিবাচক হলে, ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও একইভাবে দলটির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একাত্তর সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনৈতিক দল সুযোগ পেলেই জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং দেশকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তির বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের আগে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করে, একই সঙ্গে ২০২৪ সালের আন্দোলনের চেতনাকেও ধারণ করে। সেই অবস্থান থেকেই জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে দলটি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেও জানান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, মুখে ২০২৪ সালের আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার কথা বললেও আমন্ত্রিত দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাত্তরে জনগণকে যেভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ দেখা গেছে। এসব দলের বক্তব্যের সঙ্গে তাদের বাস্তব কর্মকাণ্ডের মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সভাটি পরিচালনা করেন।

এতে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনসহ অন্য নেতারা।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সদ্য সংবাদ/এআর

রাজনীতি ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১৪ বছর নির্মাণকাজ চলার পর বিআরটি প্রকল্পে ইতি, রূপান্তর হচ্ছে সাধারণ মহাসড়কে সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান সদ্য. রংপুর সফর শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. মালদ্বীপের জালে ৩৩ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ সদ্য. সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তোলা হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১৪ বছর নির্মাণকাজ চলার পর বিআরটি প্রকল্পে ইতি, রূপান্তর হচ্ছে সাধারণ মহাসড়কে সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান সদ্য. রংপুর সফর শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. মালদ্বীপের জালে ৩৩ গোল দিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ সদ্য. সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তোলা হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী