রাজধানীর মিরপুরে এক বাবাকে তাঁর ছেলের হাতে মারধর ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে এক ব্যক্তিকে তাঁর ছেলে লাথি মারছেন এবং গালিগালাজ করছেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ছেলের পা ধরে থাকেন। পরে তাঁকে ছেলের পায়ে মাথা নত করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। পুরো ঘটনাটি অন্য একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একজন বয়স্ক বাবার সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে তাঁর পরিচয় কিংবা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, ভিডিওটি প্রথমে ওই তরুণের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেলেও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো বিষয় থেকে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ঘটনাটি নিয়ে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা মতবিরোধ থাকলেও কোনো বাবা-মায়ের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি একজন শিক্ষক বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন মানুষ সমাজে অন্যদের শিক্ষা ও নৈতিকতার পাঠ দিলেও নিজ পরিবারে এমন পরিস্থিতির শিকার হলে তা পারিবারিক সম্পর্ক ও মূল্যবোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সদ্য সংবাদ/এসএস