কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তার সাহস ও সংযমের প্রশংসা করেছেন সাংবাদিক শহিদুল আলম। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দেশে থাকলে সালমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাকে জড়িয়ে ধরতেন।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগ্রিনি প্রোপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে দুর্বৃত্তরা সেখানে হামলা চালায়। এ সময় স্টুডিওর বিভিন্ন সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর বিভিন্ন অংশ দেখিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান তিনি।
সালমান বলেন, দীর্ঘ ১২ বছরে একটি ছোট কক্ষ থেকে কাজ শুরু করে তিনি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে যারা নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখেন, তাদের বাস্তবতার কথাও মাথায় রাখতে হবে। তিনি জানান, নিজের কোনো রাজনৈতিক ব্যাকআপ না থাকলে কিংবা কারও তোষামোদ না করলে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিজের মানসিক অবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সালমান বলেন, তিনি নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তার মতে, এমন পরিস্থিতি সবার পক্ষে সামলে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, স্টুডিওতে কর্মরত অনেক শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের কষ্ট তাকে নাড়া দিয়েছে। সহকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, এই ক্ষতি কাটিয়ে আরও বড় কিছু করার চেষ্টা করবেন।
এ সময় সালমান বিএনপির কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন এবং তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই ভিডিওবার্তায় বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
সালমানের ভিডিওবার্তা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সাংবাদিক শহিদুল আলম। পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলাদেশে থাকলে সরাসরি ওই স্টুডিওতে গিয়ে সালমানকে তার সাহস ও সংযমের জন্য আলিঙ্গন করতেন।
শহিদুল আলম একই সঙ্গে বলেন, শুধু সালমানের সাহসের প্রশংসা করেই বিষয়টি শেষ করা উচিত নয়। তার মতে, চাঁদাবাজির সংস্কৃতির অবসান প্রয়োজন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পাশাপাশি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস