চট্টগ্রামের মানুষ অন্য জেলার বাসিন্দাদের আগে জান্নাতে যাবে এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন সুন্নি ঘরানার বক্তা ও শায়ের মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার মানুষের জান্নাতে যাওয়ার একটি ধারাবাহিকতার কথাও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে আতাউল বারী দাবি করেন, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী এবং আশেকে রাসুল। এ কারণে রাউজানের মানুষই সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে বলে তিনি বক্তব্য দেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ার মানুষ জান্নাতে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জান্নাতে যাওয়ার পরই অন্য জেলার মানুষের পালা আসবে।
নিজের বক্তব্যের যুক্তি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামকে ‘সুন্নিয়তের ক্যান্টনমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ৭৩ দলের বিষয়ে প্রচলিত একটি হাদিসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীদের জান্নাতি দল হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মানুষকে সুন্নি মতাদর্শ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং নামের সঙ্গে ‘সুন্নি’ শব্দ যুক্ত করার কথাও বলেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ-হাস্যরস করেছেন। অনেকে এ ধরনের দাবির ধর্মীয় ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মাওলানা আতাউল বারী আলকাদেরী চট্টগ্রাম অঞ্চলে সুন্নি বা রেজভী ধারার বক্তা ও শায়ের হিসেবে পরিচিত। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায় তার বাড়ি বলে জানা যায়। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও এটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসএস