জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের জন্য। সেই বাধা পেরিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয় পেলেই চলত না, জিততে হতো বড় ব্যবধানে। নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
এত কম পুঁজি নিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখন কার্যত শেষের পথে। পরের পর্বে যেতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সমীকরণ মেলানো কঠিন বলেই মনে হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতার পেছনে আবারও সামনে এসেছে বলের গুণাগুণ বুঝে শট বেছে নিতে না পারার পুরোনো সমস্যা। তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত তিনজনই অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েসও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দল নির্বাচন নিয়ে বিসিবির সমালোচনা করেন এবং মেধা ও পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইমরুল লেখেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট পুরো একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতি কিংবা পছন্দের সুযোগ থাকার কোনো স্থান নেই। এখন সময় এসেছে মেধা, সততা এবং দেশের স্বার্থকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার।’
ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় পাওয়ার প্লেতেই। তানজিদ ১ রান করে এবং সৌম্য কোনো রান না করেই ফিরে যান। শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। তাঁদের বিদায়ের পর সপ্তম ওভারে ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন পঞ্চম উইকেটে ১৪৭ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানেই থামে দলের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন ইমন। ৯৬ বলের ইনিংসটিতে তিনি হাঁকান পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। সাইফ হাসান ৮২ বলে করেন ৪১ রান। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান, যিনি শিকার করেন চার উইকেট।
সদ্য সংবাদ/এআর