কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে বিচারকের এজলাসের সামনে মামলার বাদীকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারক আবিদা সুলতানা মলির নির্দেশে অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সুমনা দাউদকান্দি পৌরসভার নূরপুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি।
জানা গেছে, মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার আদালতে আসেন সুমনা। হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় বিচারক আবিদা সুলতানা মলির এজলাসের সামনে মামলার বাদী সালমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় সালমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে সুমনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এতে সালমা আহত হন বলে জানা গেছে। পরে বিচারকের নির্দেশে পুলিশ সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় পাঠায়।
এ ঘটনার পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা সুমনার জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানিতে তাঁরা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান আইনজীবীরা।
ভুক্তভোগী সালমা আক্তারের অভিযোগ, আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার দাবিও জানান তিনি।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আদালত বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার স্থান। বিচার চলাকালে আদালতের এজলাসে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসেন। এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুনানির সময় বিচারক আবিদা সুলতানা মলি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা মামলা করেন, পেশকারকে সাক্ষী করেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ারেন্ট দেব, দায়িত্ব আমার।
সদ্য সংবাদ/ এআর