রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা করতে সক্ষম এমন নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ট্রাম্প। খবর এনডিটিভির।
ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইউক্রেনের এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করতে পারবেন। জেলেনস্কির ক্ষেত্রে সেই সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কির নেতৃত্বের সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ২০২২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকলে এই সংঘাত শুরু হতো না। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং অদক্ষতার কারণেই পরিস্থিতি এত দূর গড়িয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রায় ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়ে গেছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতে দুই পক্ষ মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এসব পরিসংখ্যানের পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। জ্বালানির মূল্য কমানোর লক্ষ্যেই মস্কোর ওপর কিছু যুদ্ধসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরে পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ লাখ টন এবং আরও বেশি করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এর আগে তিনি তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
অন্যদিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।
এই জ্বালানি উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্তের পর ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে মস্কো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জাপোরিঝঝিয়ায় আবাসিক ভবনে পাঁচটি গ্লাইড বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের জন্য সম্মানজনক সিদ্ধান্ত নয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে নীতিগত দূরত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে। একদিকে ওয়াশিংটন জ্বালানির দাম কমানো ও সমঝোতার কথা বলছে, অন্যদিকে কিয়েভের আশঙ্কা এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর চাপ কমিয়ে দিতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস