প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একবার হাত মেলানোর ইচ্ছা ছিল খুলনার দাকোপের ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর। বৃহস্পতিবার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি। সরকারপ্রধানের সঙ্গে হাত মেলানোর মুহূর্তকে নিজের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজু।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। পরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রাজু বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি কার সঙ্গে কথা কলাম, আমার জীবন সার্থক। বাদাম বেচি, বাংলাদেশের সরকারপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মেলাইছি, আর কি লাগে।’
রাজু জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর পেয়ে তিনি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে যান। উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে একবার প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখা এবং তাঁর সঙ্গে হাত মেলানো। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। হাত মেলানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নিজের ভালো লাগার কথাও জানান রাজু।
সকালে হেলিকপ্টারে করে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনের দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত অনেকের সঙ্গে করমর্দন করেন প্রধানমন্ত্রী। কারও মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেও দেখা যায় তাঁকে। সেই পথেই বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজীর সঙ্গে হাত মেলান সরকারপ্রধান।
সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তিনি মোংলা বন্দরের জেটিতে পৌঁছান।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চলও ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেলে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক মুহূর্তের সাক্ষাৎ রাজু গাজীর জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ এক স্মৃতি। জীবিকার তাগিদে বাদাম বিক্রি করা এই মানুষটির কাছে সরকারপ্রধানের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিজ্ঞতাই যেন দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ।
সদ্য সংবাদ/এসএস