ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে নীরব থেকে তা মেনে নেওয়ার মতো ‘সুশীল’ তিনি নন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষারের সঙ্গে রাশেদ খানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই আলোচনার একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে টকশোর ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রাশেদ খান। তার দাবি, আলোচনার শুরুতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সারোয়ার তুষার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন।
রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, টকশোতে তাকে উদ্দেশ করে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকেন।’ এর জবাবে রাশেদ খান তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার বর্ণনা দিয়ে রাশেদ খান দাবি করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন এবং রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরপর ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, তিনি তখন ছাত্র না হলেও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেছেন। তার দাবি, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠকের ব্যবস্থাতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৮ জুলাই আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগে তিনি কাজ শুরু করেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে রাশেদ খান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি মাঠে ছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
টকশোতে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, অনুষ্ঠানে তাকে একাধিকবার ‘বেয়াদব’ ও ‘মিথ্যুক’ বলা হয়। প্রথমবার তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরে একই ধরনের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন বলে জানান।
নিজের ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষারের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে তিনি অন্য কয়েকজনের বক্তব্যও তুলে ধরেন।
পোস্টের শেষ দিকে রাশেদ খান বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দেব এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না।’
একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে ‘ভণ্ডবস্তের রাজনীতি’র সূচনা করা হয়েছে। এ ধরনের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, পারস্পরিক ভদ্রতা বজায় রাখলে তার পক্ষ থেকেও আরও বেশি ভদ্রতা থাকবে।
টকশোর ওই বিতর্ক এবং রাশেদ খানের পরবর্তী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস