কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তেহরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল রেখেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের যৌথ অনুমোদন না পেলে আইনত তাকে এই সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা আছে, কোনো সামরিক অভিযান শুরু করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। এরপর তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন একক সিদ্ধান্তে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে লিখিতভাবে ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজন’ উল্লেখ করে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়ানো যায়। কিন্তু এই ৯০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ার কথা।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। অতীতে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে তা উপেক্ষা করেছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করার মতো কার্যকর কোনো স্পষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নেই।
বর্তমানে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজন ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১৫ এপ্রিল সিনেটে তার যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার একটি দ্বিদলীয় উদ্যোগ ৫২-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়। যদিও অনেক রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন, তবুও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নিয়ে তাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, কিন্তু এর ওপর যথাযথ তদারকি নেই। কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৬০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তারা আর এই যুদ্ধের পক্ষে থাকবেন না।
মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে আরব সাগরে একটি ইরানি জাহাজ আটক এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেললেও তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তিনি সহজে পিছু হটবেন না। বরং অতীতে ব্যবহৃত সামরিক অনুমোদন আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করতে পারেন, যেমনটি আগেও বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।