চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কালামা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে। শক্তিশালী এই কম্পনে আশপাশের এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সুনামির কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। ফলে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ চিলি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে।
ইতিহাস বলছে, ১৫৭০ সালের পর থেকে চিলিতে প্রায় একশ’ বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ০ বা তার বেশি। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি দশকে গড়ে অন্তত একটি বড় ধরনের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয় চিলি।
চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ১৯৬০ সালে ভালদিভিয়া এলাকায়। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে জাপান পর্যন্ত আঘাত হানে। এতে চিলিতে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
এরপর ২০১০ সালে মাউলে উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রাণ হারান পাঁচ শতাধিক মানুষ।
অন্যদিকে, দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয় ১৯৩৯ সালের চিলান ভূমিকম্পকে। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে শহরের অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে এবং সরকারি হিসাবে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যদিও ধারণা করা হয়, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি