আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র , নজর ট্রাম্পের দিকে

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন, ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব কম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ফলাফল যাই হোক, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে বিজয়ী হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁর উদ্বেগ নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য অনেকটাই আস্ফালনের মতো শোনায়। চলমান যুদ্ধটি মার্কিন জনগণের মধ্যে জনপ্রিয় নয়। এক-তৃতীয়াংশেরও কম নাগরিক যুদ্ধ সমর্থন করছেন। শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে।

যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে বড় বাধা হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যার নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতে। এই পরিস্থিতির অবসান চাইতেই ভ্যান্সকে আলোচনায় পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বোঝানো হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা নিয়ে আন্তরিক।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জন হেনড্রেন জানান, ভ্যান্সের ফিরে আসা মানেই আলোচনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দর-কষাকষি চলছে এবং তা দূর থেকেও চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। আলোচনার টেবিল ছেড়ে আসা শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের কৌশলও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান শুধু পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সেই প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টাও না করার অঙ্গীকার দিক। এমন জটিল বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল, যা পরে ট্রাম্প বাতিল করেন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট–এর সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানকে যে কঠোর বার্তা দিয়েছে, পর্দার আড়ালেও যদি একই সুর থাকে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাঁর মতে, এই যুদ্ধে সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে নয়, বরং ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ইরানই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষই এর মাশুল দিয়েছে।

এই আলোচনার সমাপ্তি অনেক দিক থেকেই বিস্ময়কর বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসাতে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়েছিল। এক প্রবীণ কূটনীতিক জানিয়েছেন, যোগাযোগের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান আলোচনার ধারা বজায় রাখতে আগ্রহী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে আলোচনায় যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আলোচনা শুরুর সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, লেবাননসহ ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে পাকিস্তানি কূটনীতিকদের দাবি, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, তবে এবার আলোচনার পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় মতপার্থক্যও বেড়েছে। প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের জন্য এই নৌপথ বন্ধ রাখা হবে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

ইরান সব যুদ্ধক্ষেত্রে একযোগে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির দাবি তুলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কূটনীতি কখনো শেষ হয় না এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আলোচনার ধারা অব্যাহত থাকবে।

এখন বড় প্রশ্ন—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, যোগাযোগের পথ খোলা রাখা জরুরি এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো উচিত। তবে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ট্রাম্পের পরবর্তী অবস্থানের ওপর।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা