চট্টগ্রামের ডিসি হতে ৬৯ কোটির ‘পদায়ন চুক্তি’, উপসচিব সালাহউদ্দিনের গোপন নথি ঘিরে নতুন বিতর্ক

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৪:০৯
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ পেতে ৬৯ কোটি টাকার আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কন্ট্রোলার অব স্টোর্স ও বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের উপসচিব মো. সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বিধিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে একটি লবিং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে নিজের স্বাক্ষরের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, কাঙ্ক্ষিত পদায়ন নিশ্চিত করতে মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পদায়ন নিশ্চিত করতে ৩০ কোটি টাকা ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়। পরে পদায়ন পাওয়ার পর ওই অর্থের দ্বিগুণ ৬০ কোটি টাকা এবং অতিরিক্ত ৯ কোটি টাকা সার্ভিস চার্জসহ মোট ৬৯ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে সমঝোতা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল। পাশাপাশি, এই বিপুল অঙ্কের অর্থের সংস্থান করতে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪৫ কোটি টাকার অর্থায়ন বা ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।

সম্মতিপত্রটি পর্যালোচনা করে জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ (পরিচিতি নম্বর: ১৬৫২১) নিজের পদ ও ব্যাচ উল্লেখ করে একটি লিখিত ঘোষণা দেন। সেখানে চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ দেওয়া হলে দায়িত্ব গ্রহণে তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশাসনিক রীতিনীতি অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট পদায়নের জন্য এ ধরনের আগাম সম্মতিপত্র দেওয়া নজিরবিহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নথির আরেক অংশে দেখা যায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমানকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের বিষয়টি তার মাধ্যমে করার কথা বলা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা নিজের বদলি বা পদায়নের মতো প্রশাসনিক বিষয়ে কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে লিখিতভাবে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নথি অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর সালাহউদ্দিন আহমেদকে চট্টগ্রাম বন্দরে বদলি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে তার পদায়নের পেছনেও প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরে যোগদানের পর থেকেই তিনি চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক জেলার জেলা প্রশাসক পদে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, সরকারি চাকরির বিধিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা পদায়ন বা বদলির ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রভাব বিস্তার, তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা কিংবা আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট পদায়ন বা বদলি নিশ্চিত করতে আগাম সম্মতিপত্র দেওয়া এবং তদবিরের মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা সরকারি চাকরির আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে চাকরি থেকে বরখাস্ত পর্যন্ত।

এছাড়া প্রশাসনিক পদায়ন প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা কিংবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দুর্নীতি দমন আইনসহ প্রচলিত ফৌজদারি আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সদ্য সংবাদ/এসএস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. বৃহস্পতিবার খুলনা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করি না, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বিশ্বাস করি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. চালক-সহকারী ছিলেন ঘুমে, মহাসড়কে বাস চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার! সদ্য. যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার সদ্য. তুরস্কের সেনা মোতায়েনের আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে সংসদে ভোট সদ্য. কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাতিল ৩ লাখের বেশি ভিসা সদ্য. বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ সদ্য. দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ছড়ানো ভিডিওটি ভুয়া: সৌদি সদ্য. ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. বৃহস্পতিবার খুলনা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করি না, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি বিশ্বাস করি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. চালক-সহকারী ছিলেন ঘুমে, মহাসড়কে বাস চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার! সদ্য. যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার সদ্য. তুরস্কের সেনা মোতায়েনের আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে সংসদে ভোট সদ্য. কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাতিল ৩ লাখের বেশি ভিসা সদ্য. বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ সদ্য. দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ছড়ানো ভিডিওটি ভুয়া: সৌদি