প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের শঙ্কার কারণে পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের চলাচল ও যোগাযোগেও কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করা রাঁধুনি, দেহরক্ষী ও ফটোগ্রাফারদের গণপরিবহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুতিনের ঘনিষ্ঠদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগবিহীন ফোন ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুই দফা নিরাপত্তা যাচাই (স্ক্রিনিং) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তার চলাচলের রুটও সীমিত করা হয়েছে এবং আগের মতো নিয়মিত কিছু স্থানে যাতায়াত কমিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সামরিক পরিবেশে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ চাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পুতিন দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক চাপ রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশকেও অস্থির করে তুলছে।
রাশিয়ার বড় শহরগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্ন ও ডেটা বিভ্রাটের ঘটনাও জনমনে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অভ্যুত্থানের শঙ্কা ও অভিজাত মহলের দ্বন্দ্ব
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ক্রেমলিনের ভেতরে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস এবং সম্ভাব্য অভ্যুত্থান বা হত্যাচেষ্টার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজাতদের মধ্যে ড্রোন ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে অভিজাতদের ভেতরের অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রেমলিনের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের শেষ দিকে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে পুতিনের উপস্থিতিতেই তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরবর্তীতে পুতিন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতে এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রকাশ্য কার্যক্রম অব্যাহত
নিরাপত্তা উদ্বেগ সত্ত্বেও পুতিনকে এখনো নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তিনি চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিএনএনের বরাতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো নিয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।