বুধবার (২২ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ ঘোষণা দেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানালেও শর্ত হিসেবে অবরোধ ও হুমকি বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের সাফল্যে সন্তুষ্ট। তার মতে, ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বুধবার শেষ হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ালেও নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং তিনি মার্কিন জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া এই অবস্থান মূলত ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ও ‘এপামিনন্ডাস’ নামে দুটি মালবাহী জাহাজ জব্দের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া চলাচল করছিল এবং নেভিগেশন তথ্য গোপন করে পালানোর চেষ্টা করেছিল।
আইআরজিসি এ অভিযানের ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন থেকে নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে কোনো কারণ ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস ইরানের জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে না, কারণ জব্দ করা জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ছিল না।
বর্তমানে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি থাকলেও ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে তা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, অর্থনৈতিক চাপে পড়ে ইরান শিগগিরই একটি সমঝোতার পথে এগিয়ে আসবে।