ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে নাকচ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাস হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়।

ভোটের সময়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শুক্রবার (১ মে) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান অভিযান অব্যাহত রাখার সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কোনো সামরিক অভিযান চালানো যায় না।

ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান দলের দুই সিনেটর—সুসান কলিন্স ও র‍্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।

যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত এমন প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস না হওয়ায় ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হলো।

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা যাবে না বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় নিতে পারেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেট শুনানিতে বলেন, 'যুদ্ধবিরতি চললে ৬০ দিনের সময়সীমা স্থগিত থাকে।” তার দাবি অনুযায়ী বর্তমানে যুদ্ধবিরতি থাকায় সময়সীমা কার্যকর নয়।'

তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এ ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই এবং নির্ধারিত সময়সীমা শুক্রবারই শেষ হবে।'

বারবার ব্যর্থ ভোটের পর ডেমোক্র্যাটরা এখন আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানিয়েছেন, অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ চললে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ–সম্পর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সাধারণত আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছুক থাকে।

এ নিয়ে গত দুই মাসে মোট ছয়বার যুদ্ধ বন্ধ বা কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করেছে ডেমোক্র্যাটরা, কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আপাতত থমকে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে পরিস্থিতি নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা