ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি জানান, ইরান আলোচনায় অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে এবং বাস্তবে তারা ধারণার চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মের্ৎস বলেন, 'ইরানি নেতৃত্ব কার্যত পুরো একটি মার্কিন জাতিকে অপমানিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসবে, তা স্পষ্ট নয়।'
এদিকে, ইসলামাবাদে অবস্থানরত জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন ইরানের উচিত নিজেদের জনগণের স্বার্থে আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করা।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সংলাপ অত্যন্ত জরুরি।'
এর আগে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ওয়াডেফুল স্পষ্ট করেন, জার্মানি এই সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং দেশটিতে শাসন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগকেও সমর্থন করবে না।
তিনি বলেন, 'আমরা ইরানের একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চাই, তবে সেই পরিবর্তন অবশ্যই ইরানের জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে।'
তিনি আরও জানান, জার্মানি ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং দেশটির জনগণের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের বিরোধিতা করছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, 'ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা জার্মানির কাজ নয়।'
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ হরমুজ প্রণালি রক্ষায় ন্যাটোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ওয়াডেফুল জানান, এ বিষয়ে জার্মানি কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখছে না। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটোকে ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সহযোগিতা না পেলে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন।