আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় এতে সুনামির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। উপকূলীয় এলাকায় ৩ মিটার (প্রায় ৯.৮ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই টোকিওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের ভূকম্পন তীব্রতা স্কেলে এটিকে ‘আপার ৫’ মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। টেলিভিশনের জরুরি বার্তায় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি না যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা জানায়, কিছু উপকূলে ইতোমধ্যে সুনামির প্রথম ঢেউ পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং পরবর্তী ঢেউগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে জাপান সুনামি ও ভূমিকম্প মোকাবিলায় অত্যন্ত প্রস্তুত হলেও, এ ধরনের শক্তিশালী কম্পনে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।