মার্কিন কর্মকর্তারা চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা বললেও চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে এখনও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন। সম্ভাব্য এই সমঝোতার আওতায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করছে।
হোয়াইট হাউস সূত্রের দাবি, চুক্তি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলও পুনরায় চালু হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে ইরানকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস।
তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো সব বিষয়ে সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের আধাসামরিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, ইরানের জব্দ বা অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইরান তাদের ‘রেড লাইন’ বা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
এর আগে রোববার সকালে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। তবে পরে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা জানান, উভয় পক্ষ মূল নীতিগত বিষয়ে একটি বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছেছে। ‘ইসলামাবাদ ঘোষণা’ নামে আলোচিত এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদনের আগ পর্যন্ত ইরানের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, চুক্তিটি কার্যকর হতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে তা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট