ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেনের মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মিরপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর ও শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের নেতা কাজী টিপু সুলতানের ছেলে কাজী রেজন সুলতানের সঙ্গে ওই বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জুলাই রেভুলশনারি অ্যালাইন্স।
সোমবার সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দলের নেতাদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জুলাই রেভুলশনারি অ্যালাইন্সের দাবি, মো. আক্তার হোসেনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কাজী টিপু সুলতানের ছেলে কাজী রেজন সুলতানের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়েও সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পোস্টে কাজী টিপু সুলতানের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় মিরপুর ও শাহ আলী এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির পোস্টেও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন সরকার ওরফে নাজিম সরকারের উপস্থিতির বিষয়টিও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার, সম্পদ অর্জন, দখল ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা দাবি করেছে জুলাই রেভুলশনারি অ্যালাইন্স। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তার আসামি হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকা বা অভিযোগ ওঠা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
জুলাই রেভুলশনারি অ্যালাইন্স তাদের বক্তব্যে আরও জানিয়েছে, তাদের আপত্তি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে নয়। তাদের প্রশ্ন মূলত রাজনৈতিক নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে।
সংগঠনটির দাবি, বিএনপির একজন দায়িত্বশীল পদধারী ব্যক্তির পারিবারিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাদের উপস্থিতির ঘটনায় দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি বিএনপির নীতিনির্ধারকদের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলেও তারা মনে করে।
এ ঘটনায় তিনটি বিষয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রথমত, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, কোনো পদধারী নেতার কর্মকাণ্ড দলীয় নীতি বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া। তৃতীয়ত, জুলাই-আগস্টের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাতে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জুলাই রেভুলশনারি অ্যালাইন্স।
পোস্টের শেষাংশে সংগঠনটি বলেছে, জুলাইয়ের নিহত ও আহতদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়; আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
সদ্য সংবাদ/এসএস