রাজধানীর কাকরাইলে অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে রোগীর পরিবারকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও এ ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এর আগেও এই হাসপাতালে এক রোগীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ করেছিলেন স্বজনরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ আগস্ট। কাঁধে ব্যথা নিয়ে কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান দুই সন্তানের মা জাফরিন বিনতে জামান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ফয়সল আলম রিয়াদ প্রথমে তাকে Toradalin 30mg ইনজেকশন দেন।

তাতে ব্যথা না কমায় পরে Neosuxa 100mg ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, দ্বিতীয় ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই জাফরিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৪ আগস্ট মারা যান জাফরিন।
জাফরিনের স্বামী মোহাম্মদ এমদাদুল হক নিজেও একজন চিকিৎসক। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমানে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন।
জাফরিনের মৃত্যুর পর ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চিকিৎসক ফয়সল আলম রিয়াদের বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে লিখিত অভিযোগ করেন অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ডিজিএম গোলাম রাকিব।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি উঠে এলেও হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা তা মানতে নারাজ বলে জানা গেছে।
এদিকে জাফরিনের মৃত্যুর পর তার পরিবারকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে পরিবারকে অর্থ দিয়ে বিষয়টি ম্যানেজ করার তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগেও রোগীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, সামান্য সেলাই কাটানোর জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়।
ওই স্বজন হাসপাতালের নার্সদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন। তার দাবি, রোগীদের সঙ্গে নার্সদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ এবং রোগীদের শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে।
একই হাসপাতালে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে অব্যবস্থাপনার শিকার হওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মানহীন হাসপাতাল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস