নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরুজ্জামান মিন্টুকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৯ অক্টোবর নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর শহরের খামারনাচকৈড় টলটলিপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তাঁর বাবা রবিউল ইসলাম জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় সোমবার রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শাকিলের মৃত্যু হয়। তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন সৃজন বলেন, শাকিল হত্যায় জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, এমনকি তিনি দলের কেউ হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদ সদস্যের ছেলে মিন্টু এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন—এমন সন্দেহে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বিল চলন শামসুজ্জোহা কলেজের পাশে হামলার শিকার হন শাকিল। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এ সময় একটি ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয় বলে জানা গেছে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিল হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সদ্য সংবাদ/ এআর