থালাপতি বিজয়: রাজনীতির মাঠে চমক দেখালেন পর্দার অভিনেতা

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩১
তামিল চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক থালাপতি বিজয় এত দিন পর্দায় নানান বীরোচিত চরিত্রে দেখা দিয়েছেন। নায়ক হিসেবে ক্ষমতাবানদের দম্ভ ভেঙে দিয়ে তিনি সাহসিকতার ছাপ রেখেছেন। এবার সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে রাজনীতির ময়দানেও মানুষের হৃদয় জয় করেছেন তিনি।

মাত্র দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন বিজয়। তাঁর প্রকৃত নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ২০২৪ সালে তিনি তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নামে দল গঠন করেন। তামিলনাড়ুর মানুষের অধিকার নিয়ে সরব থাকার পাশাপাশি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির কড়া সমালোচনাও করেন তিনি। জনসমাবেশে মোদি সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনীতির ময়দানে সংগ্রামী ভাবমূর্তি গড়ে তোলা বিজয় এবার নির্বাচনী লড়াইয়েও সফল হয়েছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তাঁর দল টিভিকে ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে তাঁর দলই।

যদিও এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব হয়নি, তবু অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে বিজয়ের সামনে। তা হলে ৪৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুতে কোনো চলচ্চিত্র তারকা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন। এর আগে ১৯৭৭ সালে এম জে রামচন্দ্রন চলচ্চিত্রজগৎ থেকে উঠে এসে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা এক দশক রাজ্য শাসন করেন।

অভিনেতা হিসেবে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে এম জে রামচন্দ্রন রাজনীতিতে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিলেন।

এরপর বহু অভিনেতা বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়েও নির্বাচনী রাজনীতির শেষ ধাপ পেরোতে পারেননি। এমনকি জয়ললিতার মতো তারকাও নিজস্ব দল গড়ে ক্ষমতায় আসেননি; বরং এমজিআরের প্রতিষ্ঠিত দলকে শক্তিশালী করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন।

এই দীর্ঘ স্থবিরতা ভেঙে এবার সামনে এলেন বিজয়। অল্প সময়ে সুপরিকল্পিতভাবে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। আগের অনেক অভিনেতার মতো তিনি অভিনয়জগতে সক্রিয় থেকে রাজনীতিতে আসেননি; বরং ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

২০০৯ সাল থেকেই তাঁর এই যাত্রার শুরু। সে সময় বিচ্ছিন্ন ফ্যান ক্লাবগুলোকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি সংগঠনের অধীনে আনেন তিনি। প্রথমে এটি সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। মানুষের বিপদে সহায়তা, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে কাজ করে সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিতি পায়।

২০১১ সালে এই সংগঠন এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেয়, যা ছিল বিজয়ের প্রথম সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। তখন তিনি যাচাই করতে চেয়েছিলেন, তাঁর জনপ্রিয়তা ভোটে রূপান্তরিত করা সম্ভব কি না।

পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রসংক্রান্ত অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে তাঁর অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে প্রস্তুত।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমাগমে তরুণদের বেকারত্ব, শিক্ষার চাপ, দুর্নীতি ও সুশাসনের মতো বিষয় তুলে ধরে তিনি নতুন ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শহুরে তরুণদের মধ্যেও তাঁর বক্তব্য গভীর প্রভাব ফেলে।

রাজনৈতিক দল ঘোষণার আগেই তাঁর সংগঠনের শক্তি প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেন। এতে বোঝা যায়, তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু জনসমাগমে সীমাবদ্ধ নয়, ভোটেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন বিজয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে লড়বে এবং বড় দুই দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে।

দল গঠনের পরপরই অভিনয়জগৎ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি, যা তাঁর তিন দশকের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানে। প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করে তোলে।

পরবর্তী দুই বছরে টিভিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সংগঠনটি জেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত শক্ত কাঠামো গড়ে তোলে এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেয়। বিজয়কে একজন মনোযোগী শ্রোতা ও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

তবে এই পথচলা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ছিল না। ২০২৫ সালে একটি কর্মসূচিতে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা দলের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই সংকটে বিজয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত ও দায়িত্বশীল। ভুল স্বীকার করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করেন তিনি।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, ভবিষ্যতে শাসন পরিচালনার জটিলতা সামাল দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল বলছে, তাঁর সেই প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. নাশকতা দমনে ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য বিকৃত করছে: এনসিপি সদ্য. বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল সদ্য. শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৩ সদ্য. প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত, যোগদান ১ অক্টোবর সদ্য. দুর্গাপূজার ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না সদ্য. বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের দাপট, হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা